আপনার আমার চিবানো উচ্ছিষ্ট হাড্ডিগুলোও যে কারও কারও বেঁচে থাকার অবলম্বন হতে পারে! তা কি আদৌও আমরা জানি?
ঘটনাটা তাহলে খুলেই বলি। পড়ন্ত বিকেলে আমরা পাঁচজন বন্ধু মিলে ঘুরতে বের হলাম।
আমার মনটা সেদিন খুব ফুরফুরে ছিল। জানি না কেন? মানব মন খুবই রহস্যময়! মানুষের মাঝে মাঝে কোনো কারণ ছাড়াই মনে আনন্দ কাজ করে। আবার কারণ ছাড়াই মন বড্ড খারাপও থাকে। যাক গে আসলে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দীতে একটু আড্ডা দেওয়া।
আমরা ফুলবাড়িয়া হয়ে ঢাবির হলের সামনে দিয়ে হেটে গল্প করতে করতে যাচ্ছি। হঠাৎ একটা দৃশ্য দেখে চোখ ফেরাতে পারি নি। দেখলাম এক মধ্য বয়স্ক মহিলা (সম্ভবত পাগল) একটা পলিথিনের মধ্যে মুরগীর রানের অসংখ্য হাড্ডি জমিয়ে রেখেছে। চলতি পথে আমি একটু থেমে গেলাম। হাড্ডিগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
খেয়াল করলাম মহিলাটি কয়েকটা হাড্ডি আগুনে পুরিয়ে পুরিয়ে খাচ্ছে। ঐদিকে বন্ধুরা আমাকে রেখে অনেকটা সামনে চলে গিয়েছে। তারা আমাকে খুঁজতে শুরু করলো পিছন ফিরে তাকানোর পর আমি ইশারা করলাম দাঁড়ানোর জন্য।
বিষয়টা আমাকে অনেকটা ভাবিয়ে তুলল।
একজন মানুষ উচ্ছিষ্ট হাড্ডি খেয়ে বেঁচে আছে। আর আমরা বিনা কারণে কতো খাবার উচ্ছিষ্ট করছি! আমার ফকফকা মনের আকাশটা হঠাৎই কালো মেঘাচ্ছন্ন গেল। একদম চুপ হয়ে গেলাম। বন্ধুরা বলতে লাগলো, কি রে তোর হঠাৎ কি হয়ে গেল? আমি বললাম, ও কিছু না এমনিতেই।
আমার মতে খাবারগুলো উচ্ছিষ্ট না করে আশেপাশে অভুক্ত একমুঠো খাবারের জন্য হা করে থাকা মানুষগুলোকে দিয়ে দেওয়া উচিৎ। জানি না চারদিন না খেয়ে থাকার অনুভূতিটা কেমন?
অথচ আমরা নিজেকে কতো অসুখী ভেবে বসে আছি। ওদের সাথে নিজেকে একবারও তুলনা করছি কি? করি নি কোনোদিনই করি নি। আসুন অভুক্তদের পাশে দাঁড়াই।
Comments
Post a Comment